জ্যোতির্বিজ্ঞানের 10 টি সেরা বই যা অবশ্যই পড়া উচিত

জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা শুরু করতে গিয়ে প্রথমে এই বিষয়টিকে অনেক দুরূহ মনে হতে পারে। আর তার ওপর যদি আপনি কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে চর্চা শুরু করেন তাহলে ইন্টারনেট বা বইয়ের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়ার ভয় তো আছেই ।

জ্যোতির্বিদ্যার মৌলিক ধারণা পাওয়া যাবে এমন কিছু বই

জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা শুরু করার সময় একেকজনের একেক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। হয়তোবা আপনি কেবলই একজন কৌতূহলী হয়ে শখের বশে অথবা ভবিষ্যতে একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী হবার ইচ্ছা থেকে এটাকে গুরুত্বসহকারে নিয়ে চর্চা শুরু করতে পারেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে উভয় দিককেই বিবেচনায় নিই তবুও আপনার কিছু মৌলিক ধারণা/জ্ঞান না থাকলে আপনি জ্যোতির্বিদ্যার গভীরে ডুব দিতে পারবেন না।

             

মৌলিক ধারণা পেতে জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যার কিছু সেরা বই

আপনি যদি কেবলই কৌতূহলী হয়ে জ্যোতির্বিদ্যা চর্চা শুরু করতে চান তবে তার জন্য একটি দুর্দান্ত সমাধান হল কিছু পপ-সাইন্স বই দিয়ে শুরু করা। আমার ক্ষেত্রে “A Brief History of Time” এর মতো পপ-সায়েন্স বই দিয়ে শুরু করা ছিল জীবনে আমার লক্ষ্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এসব বইয়ের অন্যতম সুবিধা হল এই বইগুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয় সহজ করে বর্ণিত হয়েছে, সর্বোপরি সাধারণের জন্য বোধগম্য করে তুলে ধরা হয়েছ।

 অবশ্য আপনার যদি বিজ্ঞানী হওয়ার আগ্রহ থেকে থাকে তথাপি কিছু বই পড়ার চেষ্টা করা উচিত। আর সেক্ষেত্রে আমাকে যদি বলেন সেরা বইগুলোর মধ্যে থেকে কিছু বই সুপারিশ করার জন্য তাহলে আমি বলব হকিংয়ের “A Brief History of Time”, কার্ল স্যাগানের “Cosmos”, নীল ডি-গ্র্যাস টাইসনের “Astrophysics for people in a hurry ” ও “Welcome to the Universe”। তাছাড়া স্টিফেন হকিংয়ের অন্যান্য বইগুলোও পড়ার জন্য দুর্দান্ত ।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের সেরা ১০ বই

ভবিষ্যতে একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে দরকারি সেটি হচ্ছে ফিজিক্স। আপনাকে অবশ্যই জ্যোতির্বিজ্ঞান বুঝতে হলে পদার্থবিদ্যায় অসম্ভব দক্ষ হতে হবে।

পদার্থবিজ্ঞান চমৎকার একটি বিষয়। তবে আপনি যদি জ্যোতির্বিদ্যার প্রথম দর্শনেই এর প্রেমে পড়ে যান তাহলে আপনি সহজেই পদার্থবিজ্ঞানের কথা ভুলে গিয়ে ভাবতে পারেন যে আপনি পদার্থবিজ্ঞান ছাড়াই জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা করতে পারেন। তবে সত্য এই যে উপরে উল্লিখিত পপ-সাইন্স বইগুলো আপনাকে পেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসাবে তৈরি করতে পারবে না, তার জন্য আপনাকে প্রথমে প্রচুর পদার্থবিজ্ঞান এবং গণিত চর্চা করতে হবে। আর এজন্য আমি এই নিবন্ধের শেষে পদার্থবিজ্ঞানের ওপর অসাধারন কিছু বইয়ের তালিকা পেশ করেছি তাই আপনি কৌতূহলী হয়ে থাকলে একবার দেখে নিতে পারেন। এসব বইয়ে পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ ও মৌলিক বিষয়ের ওপর কিছু অধ্যায় রয়েছে তাই আমি আমার ব্যক্তিগত এবং পারিপার্শ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ দেব যে প্রথমে সেই অধ্যায়গুলি পড়ে নিবেন এবং পরবর্তীতে পদার্থবিজ্ঞানের বড় বিষয়গুলোর গভীরে ডুব দিবেন।

১. মৌলিক জ্যোতির্বিদ্যা (Fundamental Astronomy)

লেখক: Hannu Kartunen, Pekka Kroger

 

মৌলিক জ্যোতির্বিজ্ঞান বইটি দিয়ে এই তালিকা শুরু করা যাক। এই বইটি আমার মতে জ্যোতির্বিদ্যার বাইবেল। বইটিতে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রায় সবগুলো শাখারই অন্তর্ভুক্তি রয়েছে এবং দারুণ ব্যাখ্যা ও উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়গুলোকে সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমার মতে এটি জ্যোতির্বিদ্যা অধ্যয়ন শুরু করার জন্য অন্যতম একটি সেরা বই। এছাড়াও বইটির বিষয়বস্তুসমূহ এমনভাবে ক্রমানুসারে সন্নিবেশিত করা হয়েছে যে যেটি নতুন কিছু অধ্যয়ন শুরু করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বইটির প্রথম অধ্যায়ে গোলাকার জ্যোতির্বিজ্ঞান(Spherical Astronomy) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা জ্যোতির্বিদ্যার ভিত্তি বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে এতে নভোবলবিজ্ঞান (Celestial Mechanics) থেকে শুরু করে সৃষ্টিতত্ত(Cosmology) পর্যন্ত আলোচনা বিস্তৃত হয়েছে। একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, পপ-সাইন্স বইগুলিতে সৃষ্টিতত্ত যেভাবে সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে আদতে তা অ্যাস্ট্রো-ফিজিক্সের অন্যতম কঠিন একটি বিষয়। আপনি যদি এর আগে পদার্থবিজ্ঞান এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান অধ্যয়ন না করে থাকেন তবে আমি আপনাকে পরামর্শ দেব কসমোলজিতে ডুব না দেওয়ার জন্য।

এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও গণিত প্রাধান্য এই বিষয়টি বোঝা খুবই কঠিন। সর্বোপরি যেমনটি আমি বলছিলাম, এটি একটি অসাধারণ বই। আমি সর্বদা এই বই থেকে পড়াশোনা করি এবং যখনই আমার প্রয়োজন হয় তখনই আমি এই বই থেকে সাহায্য নিই।

২.জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান পরিচিতি (An Introduction to Astrophysics)

লেখকঃ Baidyanath Basu

 

আপনি যদি জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যার(জ্যোতির্বিদ্যা নয়) স্বাদ নিতে চান তবে এই বইটিই আপনার জন্য। অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের জন্য পদার্থবিজ্ঞানের দরকারি সব প্রাথমিক ধারণাগুলি দিয়ে শুরু করা বইটি ধীরে ধীরে আপনাকে পদার্থবিজ্ঞান এবং মহাকাশবিজ্ঞানের ভেতরে নিয়ে যাবে। অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে আপনার যাত্রা শুরু করতে চাইলে এই বইটি অবশ্য পঠনীয়।

অধ্যাপক বৈদ্যনাথ বসু(Phd) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। তিনি University of California, Berkeley থেকে  জ্যোতির্বিদ্যায় স্নাতকোত্তর করেছেন। অসংখ্য গবেষণা নিবন্ধের লেখক অধ্যাপক বসু ছায়াপথের গঠন, ছায়াপথীয় গতি এবং তারার গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।

৩. Schaum’s Outline on Astronomy

লেখক: Stacey Palen

 

এটি সম্ভবত নবীনদের জন্য সেরা একটি বই যারা জ্যোতির্বিদ্যার কিছু বোঝার জন্য সমস্ত গণিত এবং সমীকরণ করতে চায় না। এই বইটিকে আপনি পপ-সাইন্স ও একাডেমিক টেক্সট বইয়ের মাঝামাঝি ধরে নিতে পারেন। সমীকরণের ন্যূনতম ব্যবহারের মাধ্যমে এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রধান বিষয়গুলির পাশাপাশি মৌলিক ধারনাগুলোকেও তুলে ধরেছে যা খুব সহজেই বোধগম্য ও পঠন যোগ্য।

৪. An Introduction to the Study of Stellar Structure

লেখক: S. Chandrasekhar

 

নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী সুব্রাহ্মানিয়াম চন্দ্রশেখর এর নিজের লেখা এই বইটিতে নাক্ষত্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গভীর আলোচনা করা হয়েছে। আপনি একবার পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলিকে ঝালিয়ে নিলে এই বইটি দিয়ে শুরু করতে পারেন। এটি পেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বই। বইটি নাক্ষত্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অধ্যয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদার্থবিজ্ঞানের ধারনা দিয়ে শুরু হয়েছে। যদি আপনি নাক্ষত্রিক বিবর্তনের একজন গবেষক হয়ে থাকেন তবে যথারীতি এই বইটি আপনার জন্যই।

৫. Astronomy Principles and Practice

লেখক: A. E. Roy, D. Clark

 

যদি ভুলে না গিয়ে থাকেন তবে রায়ের বইটি খানিকটা “Fundamental Astronomy”র মতো। এটি অতি সাধারণ একটি বই যাতে জ্যোতির্বিদ্যার(জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যা নয়) মূল বিষয়বস্তসহ অনেক বিষয়ের ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে এটি অনেকটা টেক্সটবুক ঘরানার বই তাই এই বইকে “Fundamental Astronomy”র সমার্থক মনে করা মোটেও সমীচীন হবে না।

যখন আমি জ্যোতির্বিদ্যা চর্চা শুরু করি তখন আমার কোনো শিক্ষক ছিল না বিধায় আমি ইন্টারনেটে সর্বাধিক পঠিত জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক পাঠ্যপুস্তকগুলি অনুসন্ধান করেছিলাম(যেমনটি হয়তোবা আপনারাও কেউ কেউ করেছেন)। আর মজার ব্যাপার হলো  তখন আমি ইন্টারনেটে যে ফলাফলগুলো পাই তার অর্ধেকেরও বেশি ছিল “Astronomy Principles & Practice” বইটির ওপর। আমার কাছে যদিও “Fundamental Astronomy” অনেক ভালো একটি বই তারপরও রায়ের টেক্সটবুকটি কিন্তু খারাপ নয়। অন্যথায় আমি এটি সুপারিশ করতাম না, তাই নয় কী? প্রকৃতপক্ষে এটি ভাল বই কিন্ত সুপারিশ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তি পছন্দকেই প্রাধান্য দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

৬. Astrophysical Concepts

লেখক: Martin Harwit

 

এই বইটি আমার কাছে দারুণ লাগে কারণ এতে পদার্থবিদ্যার অনেক বিষয় চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অতএব আপনি যদি পদার্থবিজ্ঞানের গভীরে যেতে চান তবে এই বইয়ে তা পাবেন। আপনি হয়তো ভাবছেন এই বইটি সচরাচর প্রচলিত পদ্ধতিতে পড়া সম্ভব, আসলে বইটি পড়া এতো সহজ নয় কারণ এটি প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠা দীর্ঘ। কিন্ত তারপরও বলব এটি একটি দুর্দান্ত বই, ভাল লেখনী এবং আমার প্রশিক্ষণের সময় এই বইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ের সাহায্য নিয়ে অনেকগুলো ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি।  

৭. Theoretical Astrophysics (Series)

লেখক: T. Padmanabhan

 

“Theoretical Asrophysics” হল অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের তিনটি বই নিয়ে একটি ধারাবাহিক সিরিজ যেটি লিখেছেন পুনের IUCAA এর অধ্যাপক থানু পদ্মনাভান। প্রথম খণ্ডটি অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের জন্য আবশ্যক পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়বস্তুর ওপর রচিত হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় খণ্ডে নাক্ষত্রিক জ্যোতির্বিদ্যা এবং তৃতীয়টিতে আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথ ও এর বহিঃস্থ ছায়াপথ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আর খণ্ডগুলো খুব যত্নসহকারে সাজানো হয়েছে।

প্রথম খণ্ডটি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক পর্যায়ের এমন শিক্ষার্থীদের জন্য যাদের জ্যোতির্বিদ্যায় কোনো ন্যূনতম জ্ঞান নেই। এই খণ্ডে প্রথমে গতিবিদ্যা, বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তত্ত্ব এবং পরিসংখ্যান বলবিদ্যার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয় প্রক্রিয়া, বর্ণালী, সাধারণ আপেক্ষিকতা, মহাকর্ষীয় সিস্টেমগুলির গতিবিদ্যা, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞান এবং প্লাজমা পদার্থবিজ্ঞানের মতো মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে পাকা ধারণা দেয়া হয়।

দ্বিতীয় খণ্ডে নক্ষত্রের কাঠামো ও এর বিবর্তন এবং সাদা বামন তারা, নিউট্রন তারা ও ব্ল্যাক হোলের মতো নক্ষত্রের অন্তিম পরিণামগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও এটিতে নক্ষত্রের স্তবক(Stellar Clusters), আন্তঃনাক্ষত্রিক স্থান, সূর্য এবং গ্রহের ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।

পর্যবেক্ষণমূলক মূল ফলাফল এবং এর জন্য অত্যাবশ্যক ধারণাগুলির একটি সংক্ষিপ্তসার দিয়ে শুরু হওয়া তৃতীয় খণ্ডটির গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে: ছায়াপথীয় কাঠামো এবং এর গতিবিদ্যা তত্ত্ব, ছায়াপথের গঠন-কাঠামো, মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড বিকিরণ, মহাবিশ্বে দীপ্তিমান ছায়াপথের গঠন, ইন্টার-গ্যালাকটিক মাধ্যম এবং সক্রিয় গ্যালাকটিক নিউক্লাই।

৮. An Introduction to Modern Astrophysics

লেখক: Bradley Caroll, Dale Oslie

 

আমার কিছু বন্ধু যারা আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে রোমানিয়ার জাতীয় দলের হয়ে  প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছিল ছিল তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে এই বইটিই অলিম্পিয়াডের জন্য সেরা টেক্সটবুক। এটি আমারও একটি প্রিয় বই যদিও এটি উচ্চতর অধ্যয়নের জন্য। এর ব্যাপ্তি ১৩০০ পৃষ্ঠারও বেশি সুতরাং বুঝতেই পারছেন যে এটি সহজে পাঠযোগ্য নয়। সুতরাং আপনি যদি জ্যোতির্বিদ্যার আরও গভীরভাবে ডুব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তবে এটি চেষ্টা করে দেখুন। অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অন্যতম সেরা ও বিস্তৃত এই বইটি সন্দেহাতীতভাবে আপনাকে অনেক বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেবে।

৯. An Introduction to Galaxies and Cosmology

লেখক: Mark jones, Robert Lambourne, Stephen Serjeant

 

অনেক সমাদৃত এই বইটি জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে প্রারম্ভিক ধারণা দেবার জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল ডিজাইন করেছেন। আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের বিশদ আলোচনা দিয়ে শুরু করে ছায়াপথের গঠন এবং বিবর্তনের মডেলগুলোসহ সাধারণ এবং সক্রিয় ছায়াপথগুলোর একটি সাধারণ পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।

বইয়ের দ্বিতীয় অংশে মহাজাগতিক মডেলগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করে বিগ ব্যাং, ডার্ক এনার্জি এবং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর দ্বিতীয় সংস্করণটি সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এবং পর্যবেক্ষণ সংযোজিত করে হালনাগাদ করা হয়েছে অথচ গবেষণা ক্ষেত্রে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এতে বাক্স যুক্ত সংক্ষিপ্তসার, সম্পূর্ণ সমাধান সহ অনুশীলন, একটি শব্দকোষ এবং একটি সহায়ক ওয়েবসাইট সহ অসংখ্য শিক্ষামূলক উপকরণ রয়েছে।

জটিল গণিত এড়িয়ে সহজ ও বর্ণিল এই বইটি এমনভাবে রচিত হয়েছে যে নিজে নিজে পড়ার জন্য এটি যেমন উপযুক্ত তেমনই এটি অপেশাদার জ্যোতির্বিদদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছেও গ্রহণযোগ্য।

১০. Essential Astrophysics

লেখক: Kenneth Lang

 

“Essential Astrophysics” হল জ্যোতির্বিজ্ঞান আগ্রহী প্রত্যেকের জন্য একটি মৌলিক রেফারেন্স বই যা শিখতে বা শেখানোর জন্য খুবই উপযোগী। এই বইয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণাগুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে এটি পড়তে জ্যোতির্বিজ্ঞানের কোনো প্রাথমিক জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। প্রাথমিক বিষয়বস্তর ওপর বিস্তৃত ও মহাজাগতিক মৌলিক ধারনা সমৃদ্ধ অধ্যায়গুলোর মাধ্যমে বইটি শিক্ষার্থীদেরকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের দুনিয়ায় বিচরণ করায়।

যেমনটা বলেছিলাম আমি আমার পছন্দের পদার্থবিদ্যার কিছু বইয়ের তালিকা সংক্ষেপে জানিয়ে দেব তাই এখানে আমি আর কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছি।

আমার পছন্দের পদার্থবিজ্ঞানের কিছু পঠন যোগ্য ভালো বই

Mechanics – “An Introduction to Mechanics”, Kleppner and “Classical Mechanics”, Goldstein

Electricity – “Electricity and Magnetism”, E. Purcell

Atomic Physics – “Atomic Physics”, Max Born

Quantum Mechanics – “Quantum Physics” by H.C. Verma

সর্বোপরি পুরো কোর্স করতে চাইলে  Feynman’s Lectures. দেখতে পারেন।

অনুবাদকঃ

জাবির চৌধুরী

পেট্রোলিয়াম ও খনি কৌশল বিভাগ (২০১৭-১৮ ব্যাচ)শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

 

মূল লেখকঃ Rishabh Nakra

মূল রচনাঃ https://www.secretsofuniverse.in/10-of-the-best-books-on-astrophysics/.

This Post Has One Comment

  1. Md. Syful Islam

    ভালো লাগছে। মোবাইলের জন্য responsive করা হয়নি মনে হয়। ছবিগুলো আংশিক দেখা যাচ্ছে।

    যাইহোক জাবিরের জন্য শুভকামনা। সামনে জাবিরের আরও অনেক লেখা পড়তে নাকি?

Leave a Reply